ঢাকা | বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

বিশ্ব রাজনীতির নেপথ্যে ক্ষমতা ও যৌন কেলেঙ্কারির বিস্ফোরক নথিনামা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫৪

ছবি: সংগৃহীত


কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের নতুন নতুন নথিপত্র প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক গত শুক্রবার অবমুক্ত করা প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিওর বিশাল ভাণ্ডার উন্মোচন করেছে এক ভয়াবহ সত্য।

এসব নথিতে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে ধনকুবের বিল গেটস ও ইলন মাস্কের মতো রাঘববোয়ালদের নাম উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতি ও করপোরেট দুনিয়ায় এক বিশাল কম্পন সৃষ্টি করেছে।

নথিপত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের কিছু গুরুতর তথ্যের অনুসন্ধান মিলেছে। যদিও তদন্তকারীরা বলছেন, এর মধ্যে কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে আসছেন।

তবে নথিতে দেখা গেছে, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও এপস্টেইনকে অভিনন্দন জানিয়ে ই মেইল পাঠিয়েছিলেন। ট্রাম্প শিবিরের দাবি, ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে এফবিআইতে জমা দেওয়া এসব নথির অনেক তথ্যই অতিরঞ্জিত।

মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে নিয়ে নথিতে পাওয়া তথ্যগুলো বেশ বিব্রতকর। ২০১৩ সালে এপস্টেইন নিজের ই মেইলে উল্লেখ করেছিলেন যে, বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটসের মধ্যে বৈবাহিক টানাপোড়েন চলছে।

নথিতে দাবি করা হয়েছে, গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং এপস্টেইন রুশ তরুণী ও অন্যান্য বিবাহিত নারীদের সঙ্গে গেটসের গোপন অভিসারের সুযোগ করে দিতেন।

টেসলা ও এক্স প্রধান ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের ই মেইল চালাচালির তথ্য নথিতে উঠে এসেছে। ২০১২ সালের এক ই মেইলে এপস্টেইন মাস্কের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, হেলিকপ্টারে করে তার ব্যক্তিগত দ্বীপে কতজন আসছেন।

মাস্কের উত্তর ছিল, সম্ভবত শুধু তালুলাহ আর আমি। আপনার দ্বীপে সবচেয়ে উন্মত্ত পার্টি কোন দিন হবে। এ তথ্য মাস্কের ক্লিন ইমেজের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম এ কেলেঙ্কারিতে অনেক আগে থেকেই ছিল। নতুন নথিতে দেখা গেছে, অ্যান্ড্রু এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১০ সালের ই মেইলগুলোতে তাঁদের একান্ত সময় কাটানোর আকুলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে যাতায়াত করেছেন এবং হোয়াইট হাউসে তার সঙ্গে দেখা করেছেন এমন প্রমাণ নতুন নথিতেও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে এপস্টেইনের দ্বীপে দুপুরের খাবারের পরিকল্পনার ই মেইল পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে নথিতে নাম আসার পর যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৯ সালে কারাগারে রহস্যজনক মৃত্যু হওয়া জেফরি এপস্টেইন পর্দার আড়ালে এক শক্তিশালী যৌনবৃত্তির নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন।

মার্কিন কংগ্রেসের চাপের মুখে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ্য আহ্বানের পর এ বিপুল পরিমাণ নথি জনসমক্ষে আনা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের যে নৈতিক অবক্ষয় সামনে এসেছে, তা আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by DATA Envelope
Top