বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারকে গ্রেফতার নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ডিবি!
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়া নারী বিদ্বেষী পোস্টের তদন্ত চলাকালে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে আটক করেছে ডিবি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
সূত্র বলছে, বুধবার দিনভর ডিবি কার্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন সিনিয়র কর্মকর্তারা। এ সময় ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ওই বৈঠকে জানান গ্রেফতারের মতো প্রমাণ তাদের হাতে নেই। তবে ডিবি প্রধান গ্রেফতার দেখাতে চাপ দেন তাদের। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন অধস্তন কর্মকর্তারা। এ নিয়ে একজন যুগ্মকমিশনারের সঙ্গে ডিবি প্রধানের বাগবিতণ্ডাও হয়। এ ঘটনার পর কার্যত ডিবি বিভক্ত হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করে ডিবির এক ঊধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ৫ আগস্টের আগে পুলিশ যে ধরণের ভুল-ত্রুটি করেছে সে ধরনের কর্মকাণ্ডে আর জড়াতে চায় না বর্তমানে ডিবির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
তিনি আরো বলেন, কোন সংস্থা থেকে তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তকারী সংস্থা হিসাবে তা যাচাই-বাছাই করে কোন সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে অন্য কোন সংস্থার নির্দেশে গ্রেফতার কার্যক্রম পেশাদারিত্বের বহির্ভূত একটা কাজ। এজন্য আমরা গ্রেফতারে অপারগতা প্রকাশ করেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাগবিতণ্ডার বিষয়টি সত্য না। হাতিরঝিল থানায় হওয়া মামলায় মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে গ্রেফতার দেখানো হবে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টের একটি নারীবিদ্বেষী পোস্ট ঘিরে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এই পোস্টকে কেন্দ্র করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত।
এমন পরিস্থিতিতে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট করা হয়। এই পোস্টের মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত চেয়ে রোববার রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম। এই জিডির তদন্ত করছে ডিবি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: